
লামায় সরই বিট কমকর্তা যোগসাজশে অবৈধ কাঠ পাচারের হিড়ক
বান্দরবান প্রতিনিধি :
লামা বনবিভাগের আওতাধীন সীমান্তবর্তী ডলুছড়ি রেঞ্জের সরই বন ক্যাম্পের বিট কমকর্তা করিম ও অবৈধ কাঠ পাচারকারি সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যদের মূলহোতা নয়ন গংয়ের নেতৃত্বে চলছে অবৈধ কাঠ পাচারের হিড়িক।
গোপন সূত্রে জানা যায়,সরই বিট কমকর্তা করিম ও অবৈধ কাঠ পাচারকারি সিন্ডিকেটের সদস্যদের যোগসাজশে সন্ধ্যার পর থেকে ১০০/১৫০ গাড়ি অবৈধ কাঠ ও জ্বালানি লাকড়ি ইটভাটা সহ বিভিন্ন জায়গায় পাচার করা হয়।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সরই বন ক্যাম্পের ২০০/ ৩০০ গজের ভিতরে বিশাল বড় আকারের বাগান কেটে সাবাড় করেছে বনখেকোরা। এছাড়া সরই বনক্যাম্পের আশেপাশে ৩০/৪০ টি বাগান কেটে সাবাড় করেছে বনখেকোরা। তার মধ্যে আন্ধারী ইরাকির খামারের পাশে ফাইতং ইউনিয়নের অবৈধ কাঠ পাচারকারির অন্যতম মাস্টারমাইন্ড নয়ন গংয়ের নেতৃত্বে নির্বিচারে সাবাড় করা হচ্ছে বনজসম্পদ।
স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায়, নাম গোপন রাখা বেশ কয়েকজন কাঠ ব্যবসায়ী বলেন,বিট কমকর্তা করিম আমাদের কাছ থেকে লাকরি গাড়ি প্রতি ৪০০/৮০০ এবং কাঠের গাড়ি প্রতি ৬০০/১২০০/১৫০০ টাকা প্রতি বড় বাগান কাটা বাবদ আগে দিতে হয়,৫০০০/১০০০০/ ২০০০০ পর্যন্ত বনকর্মীদের মাধ্যমে আদায় করে।
তাহলে এখন প্রশ্ন থাকে, এই টাকা কি সরকারি রাজস্ব খাতে যাই নাকি বিট কমকর্তা সহ বনকর্মী ও বন প্রহরীদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা হয় ….??
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি সরই বিট কমকর্তা করিম অবৈধ কাঠ পাচারকরি সিন্ডিকেট সদস্যদের রাতের অন্ধকারে কাঠ পাচারের সহযোগিতা করা কিসের লক্ষণ …?? সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব…??
রাষ্ট্রের দায়িত্ব থাকা রক্ষক যখন ভক্ষকের রূপ ধারণ করে সেইখানে বন-সম্পদ ও সর্বস্তরের জনসাধারণের আস্থা দুটি হুমকির মুখে পড়বে..
বাংলাদেশের বনসম্পদ সংরক্ষণে প্রণীত , বন আইন ১৯২৭ (বাংলাদেশ সংশোধিত) অনুযায়ী সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে অনুমতি ছাড়া গাছ কাটা, অপসারণ, মজুত বা পরিবহন দণ্ডনীয় অপরাধ। আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অবৈধভাবে বনজ সম্পদ আহরণ, সংরক্ষণ বা পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা, অর্থদণ্ড এবং কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
এ ছাড়া কাঠ পরিবহনের ক্ষেত্রে বৈধ পারমিট ও ট্রানজিট পাস বাধ্যতামূলক। স্থানীয় সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র গোপনে বনাঞ্চল থেকে কাঠ কেটে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত টহল, স্থানীয় জনসম্পৃক্ততা এবং আইন প্রয়োগে কঠোরতা বৃদ্ধি না করলে বন উজাড় রোধ কঠিন হবে।
সাম্প্রতিক বন বিভাগের তৎপরতার ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হলেও টেকসই ফল পেতে হলে অবৈধ কাঠ পাচারচক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। অন্যথায় বনসম্পদ রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
![]()


