
লামায় জমির দখল নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
—–
লামা উপজেলায় জমি দখলের অপচেষ্টা, হুমকি-ভয়ভীতি প্রদর্শন ও শিশুদের নিরাপত্তাহীনতার প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন করেছেন অনাথ আশ্রমে পরিচালক উথোয়াইগ্য মার্মা নামের এক বাসিন্দা।
পাল্টা অভিযোগ এনে অনাথ আশ্রমের পরিচালক উথোয়াইগ্য মার্মাকে
‘দেশদ্রোহী ও পুলিশের কালো তালিকা ভুক্ত দাবি তুলে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবাদ জানিয়ে ঘটনার বিবরণ উপস্থাপন করেন মোঃ ইউছুপ নামের এক সংবাদ কর্মি।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে রংখ্রেদঃ অনাথ আশ্রমের শিশুদের দাঁড় করিয়ে মানববন্ধন করেন আশ্রমের পরিচালক।
মানববন্ধনে আশ্রম পরিচালক উথোয়াইগ্য মার্মা বলেন, স্থানীয় মোঃ ইউছুপ নিজেকে সাংবাদিক ও কৃষকলীগ সভাপতি পরিচয়ে আশ্রমের জমি দখলের উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র করছে। প্রভাব বিস্তার করে তার সহযোগিদের মাধ্যমে আশ্রমের লোকদেরকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।
মিথ্যা দাবী তুলে কথিত ২৫০নং হোল্ডিং এর জমির অজুহাতে আশ্রম উচ্ছেদের পায়তারা চালাচ্ছেন মোঃ ইউছুপ। এই অবস্থায় আশ্রমের শিশুরা নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী করেন উথোয়াইগ্য মার্মা।
আশ্রমের জমি অবৈধ দখলের অপচেষ্টা বন্ধসহ জমির প্রকৃত অবস্থা যাচাই করে ইউছুপ কর্তৃক মিথ্যা দাবী প্রতিহত করার দাবি জানিয়ে মানববন্ধন শেষে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান এঁর বরাবর স্মারকলিপি দেন আশ্রম পরিচালক।
অপরদিকে বিকেল ৪টায় উথোয়াইগ্য মার্মার সব অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত দাবী করে সংবাদ কর্মি মোঃ ইউছুপ লামা প্রেসক্লাবে সংবাদ করে জানান, লামা উপজেলার ২৯৩ নং ছাগল খাইয়া মৌজার ২৫০ নং হোল্ডিং ও ১৩ নং খতিয়ানের মালিক আলুংসে মার্মা থেকে মোট ৩৫ শতক জমি ক্রয় করে রেকর্ডীয় মালিক হয়ে বিগত ১৫/১৬ বছর ধরে ভোগ দখল করে আসছেন।
একই মালিকের হোল্ডিং থেকে উথোয়াইগ্য মার্মা গং ১০ শতক জমি ক্রয় করে সেখানে বসতঘর করে তারাও স্থীত আছেন।
মোঃ ইউছুপ আরো দাবী করেন, ‘বিগত কিছুদিন ধরে উথোয়াইগ্য মার্মা আশ্রমকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আমার ক্রয়কৃত ৭ শতক জমি জবর দখল করার চেষ্টা করছেন। এই বিষয়ে ২০২৫ সালের ২৫ জুলাই উপজেলা নির্ব্যহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারী মামলা করি।
মামলার প্রেক্ষিতে আদালত বিবাদীর প্রতি বিরোধীয় জায়গায় স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। বিজ্ঞ আদালতের এমন নির্দেশনার পর উথোয়াইগ্য মার্মা ক্ষিপ্ত হয়ে আমার আরও প্রায় ৫ শতক জায়গা জবর দখলের পায়তারা করছেন।
এসব ঘটনায় গত ৭ এপ্রিল উপজেলা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভূমি প্রতিকার আইনে মামলা করেছি, যা তদন্তাধীন আছে।
বর্তমানে উথোয়াইগ্য মার্মা আশ্রমের কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে চরম মিথ্যাচারের মাধ্যমে স্পর্শকাতর ইস্যু তৈরি, এলাকায় অশান্তি ও আমার জমি দখলের ষড়যন্ত্র করছেন।
এসব বিষয়ে বিভিন্ন দপ্তরের নির্দেশনায় মৌজা হেডম্যান, পাড়া কারবারি, কাউন্সিলর, অন্যান্য জনপ্রতিনিধিগন সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদন দেন। ওইসব প্রতিবেদনে উথোয়াইগ্য মার্মার দাবি মিথ্যা ও বানোয়াট বলে উল্লেখ করা হয়।
মোঃ ইউছুপ সাংবাদিক সম্মেলনে আরো বলেন,’অনাথ আশ্রম পরিচালনার আদলে উথোয়াইগ্য মার্মা পাহাড়ি সশস্ত্র চাঁদাবাজ সংগঠনের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছেন।
মোঃ ইউছুপ বর্তমানে উথোয়াইগ্য মার্মা কর্তৃক যে কোনো সশস্ত্র হামলা, মিথ্যা মামলা ও প্রাণ নাশের ভয়ে আছেন দাবি করে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা প্রার্থনা করেছেন।
![]()

