
উর্ধ্বমুখী সবজির দামে নাভিশ্বাস নিম্ন আয়ের মানুষের।
মোঃ আলমগীর হোসেন রানা।
সাম্প্রতিক টানা প্রবল বর্ষন ও পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ বন্যার প্রভাবে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার কৃষকদের বিস্তীর্ণ সবজির ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে দেখা দিয়েছে সবজির সংকট। এর প্রভাবে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ।
উপজেলার আমিরাবাদ বটতলি কাঁচা বাজারে সরজমিনে দেখা যায়, প্রতি কেজি ঝিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা, বেগুন ১২০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, শসা ১৩০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, টমেটো ১২০, কাকরোল ৮০ টাকা এবং কাঁচামরিচ প্রায় ২০০ টাকা দরে। অথচ বন্যার আগে এসব সবজি ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যেত। মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে অনেক সবজির দাম দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বেড়েছে।
সম্প্রতি টানা ১০ দিন ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের সবজি ক্ষেত প্লাবিত হয়। এতে কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। বন্যায় কৃষিজমি, সবজির ক্ষেত, মাছের খামার ও গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বন্যায় উপজেলার ৯৪০০ কৃষকের ১৫০ হেক্টর শষ্য ক্ষেত, ৫ হেক্টর পান ও ৩৬০ হেক্টর আউশ, আমনের বীজতলায় বন্যার পানি ঢুকে সর্ম্পূন ধ্বংস হয়ে যায়। যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৫ কোটি ১৪ লক্ষ ১০ হাজার ৫ শত টাকা।
বন্যায় স্থানীয় সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সবজির উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে সবজি দাম। উপজেলা
সবজি চাহিদা মেটাতে দক্ষিণ চট্টগ্রামে ফটিকছড়ি, ফেনী ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে পরিবহন করে সবজি আনার কারণে মূল্য বৃদ্ধির আরেকটি কারণ বলে জানিয়েছে বিক্রেতাগণ।
কৃষক জসিম উদ্দীন বলেন, বন্যায় পানিতে আমার ৫ লক্ষ টাকার সবজির ক্ষেত ডুবে যায়। পানির নেমে যাওয়ার সাথে সাথে সব চারা নষ্ট হয়ে গেছে। এখন কিভাবে ঋণের বোঝা টানবো সে চিন্তায় আছি।
ক্রেতা সালাহ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, যেভাবে সবজির দাম বেড়েই চলেছে, তা সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে চলে যাচ্ছে। এতে নিম্ন আয়ের মানুষ সবজি খেতে পারবে বলে মনে হয় না। তাছাড়া বন্যার আগে যে সবজি ৩০ থেকে ৪০ টাকায় ক্রয় করেছি তা এখন একই সবজির জন্য ৭০ থেকে ১২০ টাকা গুনতে হচ্ছে।
সবজি বিক্রেতা গোলাম ফারুক বলেন, বন্যার পূর্বে উপজেলার স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে সবজি ক্রয় করতাম। কিন্তু বন্যা হওয়ায় লোহাগাড়া সাতকানিয়া উপজেলার অধিকাংশ সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে ফটিকছড়ি, ফেনী ও চট্টগ্রাম থেকে সবজি নিয়ে আনতে হয়। ফলে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিক্রি মূল্যও বাড়াতে হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাজী সফিউল আলম বলেন, বন্যায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সবজির ক্ষেত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে, যার কারণে সবজির দাম বেড়েছে। কৃষকদের পুনর্বাসন এবং দ্রুত উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
![]()


