আলীকদম জোনের উদ্যোগে দুর্গম পাহাড়ভাঙ্গা পাড়ায় ‘সেনা মৈত্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়’ উদ্বোধন ও ব্যাপক জনসেবামূলক কর্মসূচি পালন

আলীকদম জোনের উদ্যোগে দুর্গম পাহাড়ভাঙ্গা পাড়ায় ‘সেনা মৈত্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়’ উদ্বোধন ও ব্যাপক জনসেবামূলক কর্মসূচি পালন

আলীকদম জোনের উদ্যোগে দুর্গম পাহাড়ভাঙ্গা পাড়ায় ‘সেনা মৈত্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়’ উদ্বোধন ও ব্যাপক জনসেবামূলক কর্মসূচি পালন

মো: ফরিদুল আলম বাবলু
স্টাফ রিপোর্টার

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বান্দরবান রিজিয়নের অন্তর্গত আলীকদম জোনের উদ্যোগে মায়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন অত্যন্ত দুর্গম পাহাড়ভাঙ্গা পাড়ায় ‘সেনা মৈত্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়’-এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মঙ্গলবার সকালে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই বিদ্যালয়ের উদ্বোধন করেন আলীকদম জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল মোঃ আশিকুর রহমান আশিক, এসপিপি, পিএসসি।
বিদ্যালয় উদ্বোধন ছাড়াও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে স্থানীয় ৩১৫ জন রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, ১১৩টি পরিবারকে শীতবস্ত্র এবং নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

আলীকদম উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে এবং মায়ানমার সীমান্ত থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার অভ্যন্তরে অবস্থিত পাহাড়ভাঙ্গা পাড়া। ভৌগোলিক দুর্গমতার কারণে এই অঞ্চলের ফাতরাপাড়া, মাসখুম পাড়া ও তরণী পাড়ার শিশুরা দীর্ঘকাল ন্যূনতম শিক্ষা সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে আলীকদম জোন এই এলাকায় ‘সেনা মৈত্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করে। উদ্বোধন শেষে নবীন শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ব্যাগ, বেঞ্চ, পাঠ্যবই ও স্টেশনারি সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

জনকল্যাণমূলক এই আয়োজনে একটি বিশেষ মেডিকেল টিম দুই দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করে। এতে ৯৫ জন পুরুষ, ১৭৫ জন মহিলা এবং ৪৫ জন শিশুসহ সর্বমোট ৩১৫ জনকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা ও ওষুধ প্রদান করা হয়। এছাড়া শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষায় ১১৩টি পরিবারের মাঝে কম্বল এবং আর্থিক সংকট নিরসনে নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেন প্রধান অতিথি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল মোঃ আশিকুর রহমান আশিক বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করছে। দুর্গম এই জনপদে আজ শিক্ষার যে যাত্রা শুরু হলো, তা ভবিষ্যতে এখানকার শিশুদের উন্নত জীবনের পথ দেখাবে। শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে সেনাবাহিনী সর্বদা জনগণের পাশে থাকবে।”

Loading

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *