অন্তরবর্তীকালীন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির আনন্দ মিছিল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

অন্তরবর্তীকালীন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির আনন্দ মিছিল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

অন্তরবর্তীকালীন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে
পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির আনন্দ মিছিল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

মুহাম্মদ আলী,স্টাফ রিপোর্টার: অন্তরবর্তীকালীন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির ব্যানারে আনন্দ মিছিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

৯অগস্ট বিকেল চারটায় মিছিলে নেতৃত্ব দেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মুজিবর রহমান। বিশাল মিছিলটি হিলবাট থেকে শুরু হয়ে বান্দরবান শহরা পদক্ষিন করে মাঈিদ মুক্তমঞ্চে এসে শেষ হয়।

বক্তব্যে কাজী মুজিব বলেন, দেশে নতুন সূর্য উঠেছে। শহীদ আবু সাঈদদের রক্তে অর্জিত  আমরা একটি অন্তরবর্তীকালীন নতুন সরকার পেয়েছি। প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন,বান্দরবান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সর্বকালে সেরা দুর্নীতিবাজদের একজন। তাকে পালিয়ে যেতে দেয়া যাবে না। কাজী মুজিব আরো বলেন, তার আর্থিক সহায়তায় কেএনএফ করেছে ও জনগণকে অধিকার হতে বঞ্চিত সন্ত্রাসীরা অস্ত্র কিনে সেটা দিয়ে দেশ প্রেমিক সদস্যদের হত্যা করেছে। তার বিচার হওয়া এখন সময়ের দাবী। আরেক দুর্নীতিবাজ জেলা আওয়ামীলীগের সম্পাদক লক্ষ্মীপদ দাশ গুণ্য থেকে শত কোটি মালিক হয়েছে। তাকেও দুর্নীতি মামলার আওতায় দরকার। প্রসঙ্গক্রমে বলেন, লক্ষ্মী অমল বিমল বান্দরবানে শত শত কোটি টাকার মালিক। বান্দরবানের মানুষের সুপ্রিয় পানির টাকা দিয়ে ৮তলা ভবন করেছে মোজাম্মেল হক বাহাদুরেরা জামায়াত বিএনপি’র নেতা, আলেম ওলামাদেরকে জঙ্গি তকমা লাগিয়ে একের পর এক হুলিয়া জারী হয়রানী-অপমান করেছে লক্ষীরা। তারা জনগনের করে লক্ষ কোটি টাকা ভারতে পাচার করেছে।

আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে জেলে রেখে হত্যা করেছে। তারা সাঈদি হজুরের নামাজের জানাজা অনুষ্ঠিত হতেও বাঁধা দিয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ গঠনের পর হতে অদ্যাবধি কোন নির্বাচন হয়নি। আঞ্চলিক পরিষদ পঠনের পর হতে অদ্যবধি পর্যন্ত চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যরা পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে উল্লেখিত বিষয়ের আলোকে আঞ্চলিক পরিষদ, উন্নয়ন বোর্ড, পার্বত্য জেলা পরিষদ ও টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান, সদস্য ও প্রতিনিধি পরিবর্তন করে উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরাপদ ঘাটি বন্ধ করার কথা বলেন কাজী মুজিব। রাজার সনদ বাতিল করতে না পারলে জেলা প্রশাসক থাকার প্রযোজন নেই।

সরকার গঠনের পর অদ্যবধি চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যগণ বহাল তবিয়তেই আছেন। ফলে সীমাহীন দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি দিন দিন বেড়েই চলেছে। অচিরেই আঞ্চলিক পরিষদে নির্বাচন অথবা সিলেকশনের মাধ্যমে প্রগতিশীল বাঙ্গালী ও পাহাড়ি অন্তর্ভুক্ত করে নতুন পরিষদ গঠন করা হোক।

কাজী মুজিব আরো বলেন, উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান বার বার উপজাতীয় সম্প্রাদায় হতে সিলেক্টেড করার ফলে এর সুফল ভোগ করছে একটি মাত্র সন্মানায় চত্বর ও অল্প কিছু উপজাতীয় নেতৃবৃন্দ। আগামীতে উন্নায়ন আবু বোর্ডের চেয়ারম্যান একজন সেনাবাহিনীর অফিসার নিয়োগ করা হলে অধিকার বঞ্চিত মানুষগুলো তাদের অধিকার ফিরে পাবে। তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা পরিষদগুলো লুটপাটের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিলো। পার্বত্য চট্টগ্রামের ও জেলার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যদের কোন জবাবদিহিতা না থাকার ফলে, যখন যেই সরকার ক্ষমতায় ছিলো তাদের দলীয় প্রতিনিধিগণ পকেট ভারী করেছে।

সেনা এ অবস্থায় সম্পদের সুষম বণ্টন, জনগণের সাংবিধানিক দরকার। অধিকার ও জেলা পরিষদগুলোকে জনগনের প্রকৃত সাধারণ সেবাকেন্দ্র হিসোবে পুনগঠনের লক্ষে যাচাই-বাছাই টাকার পূর্বক সৎ, ন্যায়পরায়ণ, যোগ্য ও আদর্শবান ব্যাক্তি আনা নিয়োগ দানের জোর দাবি করছি। এছাড়া পার্বত্য শিমলরা চট্টগ্রামে বসবাসরত ৫৪% বৃহৎ বাঙ্গালীদের প্রতিনিদি হয়েছে। হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ হতে যাচাই- ৫-১০ বাছাই পূর্বক ২ জন করে ৩ জেলা পরিষদে ৬ জন সদস্য । নিয়োগ দিতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে টাস্কফোর্স ঢেলে মিথ্যা সাজাতে হবে। বিগত সরকারগুলো তাদের অনুগত করে প্রতিনিধি দিয়ে পরিচালনা করেছে। দেশের রাজনৈতিক লুট ক্ষমতার এই পালাবদলের পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামে জুনায়েদ স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সুদক্ষ, ন্যায়পরায়ন, যোগ্য, আলেমকে আদর্শবান ও অসাম্প্রদায়িক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে জনগণের প্রকৃত সেবাকেন্দ্রে কার্যকর করতে, সহ যোগা, মেধাবী, আদর্শবান ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী ব্যক্তি নিয়োগ দিতে হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ বান্দরবান জেলা কমিটির সহ-সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এর সভাপতিত্বে ও যুগ্ন সম্পাদক শাহজালাল এর সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ বান্দরবান জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাসির উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মজিদ, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক এম রুছল আমিন, জেলা কমিটির সহ-সভাপতি নুর আলম, আব্দুর শুক্কুর,লামা উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামরুজ্জামান, বান্দরবান পৌর কমিটির সম্পাদক এরশাদ চৌধুরী, ছাত্র পরিষদ বান্দরবান জেলা সাধারণ সম্পাদক হাবিব আল মাহমুদ প্রমুখ।

Loading

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *