
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। জড়িত রয়েছে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। এতে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার, হুমকির মুখে পাহাড়, খালের পাড় ও ফসলি জমি।
উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করলেও কোনো কাজে আসছে না, বরং বালু উত্তোলন বেড়েই চলছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
সরেজমিনে জানা যায়, ফাঁসিয়াখালি ইউনিয়নের বড়ছনখোলা বাজারের পাশে জনৈক জামাল উদ্দিন পাহাড়ের কিনারায় সেলু মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করছে। ফলে পাহাড়টি ধসে যাওয়ার উপক্রমের পাশাপাশি হুমকিতে পড়েছে খালের দু’পাশের বাড়ি, রাস্তা, ব্রিজ ও ফসলি জমি। বালু উত্তোলনের ফলে বড়ছনখোলা এলাকার একটি ব্রিজ ইতোমধ্যে ধসে পড়ে নির্মাণ হচ্ছে আবার । তবুও বন্ধ হচ্ছে না জড়িতদের এই কার্যক্রম।
অপরদিকে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সাপেরঘারা, বাইশারী ছড়া, ২নং ওয়ার্ডের হারগাজা, কুরুকপাতা ঝিরি, ৩নং ওয়ার্ডের বগাইছড়ি, মালুম্যা, কমিউনিটি সেন্টার ও ৪নং ওয়ার্ডের কুমারি চাককাটা, পেতাইন্নাছড়া এলাকা থেকে অবাধে বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে একাধিক চক্র। দূর্বল আইন প্রয়োগের কারণে জঠিতরা বালু উত্তোলন থেকে বিন্দু মাত্র পিছু হটছে না, বরং দিনে দিনে বেড়েই চলছে তাদের কার্যক্রম।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত জামাল উদ্দিন একজন ইউনিয়ন আওয়ামি লীগের নেতা। বিগত সরকার আমলেও তার সিন্ডিকেট পাহাড় ও খালের বিভিন্ন পয়েন্টে মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনে কোটি কোটি টাকার অবৈধ ব্যবসা করছে। এখনো পর্যন্ত তারা প্রতিদিন বালু উত্তোলনের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। যার ফলে হুমকির মুখে পড়েছে ওখানকার সরকারী কোটি টাকার উন্নয়ন। স্থানীয়রা জানায়, বড়ছনখোলা থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে শতাধিক ট্রাক বালু পাচার হচ্ছে সেলু মেশিনে দিনরাত এই বালু উত্তোলনের ফলে।
এ বিষয়ে অবৈধ বালু ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন বলেন, আমি আমার জায়গা থেকে বালু তুলছি, কে কি বলবে। বালু ব্যবসা করব নাতো কি করব ? আমরা টুকটাক ব্যবসা করি। জামাল উদ্দিন স্থানীয় লোকজনকে বলে বেড়ান লামা থানার ওসি সহ সরকারি অনেক কর্মকর্তা তার পকেটে। তাকে কেউ কিছু করতে পারবেনা।
লামা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের প্রশাসক রুবায়েত আহমেদ বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন উপজেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্সে আছে। আমরা ইতোমধ্যে ফাঁসিয়াখালির বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করেছি। সামনেও এই অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, আইন ভঙ্গ করে বালু উত্তোলনের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উত্তোলন পয়েন্ট অভিযানে জরিমানা করা হবে বলেও জানান তিনি।
![]()


