
আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলী মিয়া: লামার উন্নয়ন ও জনকল্যাণের এক স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব
লামা উপজেলার ইতিহাসে কিছু মানুষ তাদের কর্ম, ত্যাগ ও জনসেবার মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ী স্থান করে নেন। আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলী মিয়া ছিলেন তেমনই একজন জননেতা, যিনি লামার মানুষের উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার ও মানবিক সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গেছেন। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের নানা অবদান আজও লামাবাসীর স্মৃতিতে অম্লান হয়ে আছে।
আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলী মিয়া তার কর্মজীবনের শুরু করেছিলেন তৃণমূল পর্যায় থেকে। তিনি প্রথমে লামা সদর ইউনিয়নের একজন সদস্য (মেম্বার) হিসেবে মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করেন। পরবর্তীতে তিনি লামা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্ব, সততা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার কারণে তিনি ধীরে ধীরে বৃহত্তর পরিসরে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে লামা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি লামা উপজেলার উন্নয়নে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে তার অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দুর্গম এলাকার মানুষের জন্য শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করতে সহযোগিতা করেন। তার প্রচেষ্টায় অনেক মানুষ শিক্ষার আলো পেয়েছে এবং নতুন প্রজন্মের জন্য শিক্ষার পথ আরও বিস্তৃত হয়েছে।
তিনি শুধু শিক্ষা ক্ষেত্রেই নয়, অবকাঠামোগত উন্নয়নেও ভূমিকা রাখেন। বিভিন্ন জনপদে বিদ্যুতের সংযোগ পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়তা করেন। বিদ্যুতায়নের ফলে এলাকার মানুষের ঘরে ঘরে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয় এবং যোগাযোগ ও উন্নয়নের পথ সহজ হয়।
মানবিক সেবায়ও আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলী মিয়ার ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। বিভিন্ন সময়ে অসহায় ও শরণার্থী মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, আবাসন ও চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা করে তিনি মানুষের দুর্দিনে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তার এই মানবিক কর্মকাণ্ড তাকে সাধারণ মানুষের কাছে একজন দরদি ও জনবান্ধব নেতা হিসেবে পরিচিত করেছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (UNHCR)-এর সহযোগিতায় এবং সাংবাদিক মোহাম্মদ রুহুল আমিন ও জহির রাইটারসহ বিভিন্ন সহযোগীর সঙ্গে তিনি অনেক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানা যায়। লামার মানুষের কল্যাণে তিনি বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি ছিলেন একটি বড় পরিবারের অভিভাবক। জীবদ্দশায় তিনি চার স্ত্রী ও ২১ জন সন্তান রেখে মৃত্যুবরণ করেন। তার পরিবার যেমন তার স্মৃতি বহন করছে, তেমনি লামার মানুষও তার জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।
আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলী মিয়া ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি নিজের অবস্থানকে মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করেছেন। তার কাজ, চিন্তা ও জনসেবার ধারা লামা উপজেলার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। লামাবাসী তার অবদান ও ভালো কাজগুলো কখনো ভুলবে না। মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে তিনি চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
![]()


