আজিজ নগর  গজালিয়া সড়কের বেহাল অবস্থা মানবেতর জীবন যাপন অর্ধ লক্ষ মানুষের।

আজিজ নগর গজালিয়া সড়কের বেহাল অবস্থা মানবেতর জীবন যাপন অর্ধ লক্ষ মানুষের।

আজিজ নগর গজালিয়া সড়কের বেহাল অবস্থা মানবেতর জীবন যাপন অর্ধ লক্ষ মানুষের।
মোঃ আলমগীর হোসেন রানা সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টোর।
বান্দরবান পার্বত্য জেলার লামা উপজেলাধীন গজালিয়া–আজিজ নগর সংযোগ সড়কটির বেহাল দশা আজ মানবিক বিপর্যয়ের রূপ ধারণ করিয়াছে। স্বাধীনতার পর হইতে অদ্যাবধি সড়কটি উন্নয়নের আলো হইতে বঞ্চিত থাকিয়া কার্যত ‘আলোর নিচে অন্ধকারে’ পড়িয়া রহিয়াছে। দেখিবার যেন কেহ নাই; লোকমুখে প্রচলিত প্রবাদ অনুযায়ী—“কাজীর গরু কিতাবে আছে, গোয়ালে নাই”এই সড়কের বাস্তব চিত্রও তদ্রূপ।
লামা–সুয়ালক সড়ক সংযোগকারী গজালিয়া–আজিজ নগর সড়কটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের আওতাধীন হইলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি প্রায় অনুপস্থিত বলিয়া স্থানীয়রা অভিযোগ করিয়াছেন। ফলে গজালিয়া, আজিজ নগর ও ফাইতং এলাকার প্রায় অর্ধ লক্ষ মানুষ যুগের পর যুগ নাগরিক সুযোগ, সুবিধা হইতে চরমভাবে বঞ্চিত রহিয়াছে।
প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে সড়কটি ভাঙনের কবলে পতিত হইয়া ক্রমশ সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে পরিণত হয়। বর্তমানে উক্ত সড়ক দিয়া মোটরসাইকেল চলাচল তো দূরের কথা, পায়ে হাঁটিয়া যাতায়াত করাও দুরূহ হইয়া পড়িয়াছে। এই ভগ্নদশার কারণে এলাকার মানুষ শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবার ন্যূনতম অধিকার হইতে বঞ্চিত হইতেছে। বিশেষত গর্ভবতী নারী, বয়োজ্যেষ্ঠ নারী, পুরুষ এবং অসুস্থ রোগীরা প্রায়শই জীবন-মরণ সংকটে পতিত হইতেছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সড়কটি দ্রুত মেরামত বা পুনর্নির্মাণ না করা হইলে পাহাড়ি এলাকার সাধারণ জনগণকে প্রতিনিয়ত বন্য হাতি ও হিংস্র জানোয়ারের আক্রমণের ঝুঁকি নিয়া চলাচল করিতে হইবে, যাহা মানবিক দৃষ্টিকোণ হইতে চরম উদ্বেগজনক।
এলাকাবাসী জানান, উক্ত সড়কটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের অধিভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও বছরের পর বছর অবহেলিত থাকিয়া আসিতেছে। তাঁহারা এই সড়ককে নিজেদের “প্রাণের দাবি” আখ্যা দিয়া সড়ক ও জনপদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট অতিদ্রুত কার্যকর হস্তক্ষেপ ও স্থায়ী সমাধানের জোর দাবি জানাইয়াছেন।
মানবিকতা, নাগরিক অধিকার ও সমতার প্রশ্নে গজালিয়া–আজিজ নগর সড়কের বিষয়টি আর উপেক্ষিত থাকিতে পারে না এমনটাই মনে করেন সচেতন মহল।

Loading

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *