ডুমুরিয়ায় ঘেংরাইল-ভদ্রানদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পাকা সড়কের উপর দিয়ে উপচে পড়ছে পানি।

ডুমুরিয়ায় ঘেংরাইল-ভদ্রানদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পাকা সড়কের উপর দিয়ে উপচে পড়ছে পানি।

ডুমুরিয়ায় ঘেংরাইল-ভদ্রানদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি
পাকা সড়কের উপর দিয়ে উপচে পড়ছে পানি,
প্লাবিত হ‌ওয়ার আশংকায় গ্রামবাসী

অরুণ দেবনাথ
ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি

ডুমুরিয়ায় ঘেংরাইল-ভদ্রানদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বারুইকাটি পাকা সড়কের উপর দিয়ে পানি উপচে পড়ে ও মাদারতলা পুরাতন কালভার্টের মুখ ভেঙে ভিতরে জোয়ারে পানি ঢুকে প্লাবিত হ‌ওয়ার আশংকায় ৮ গ্রামের মানুষ। রাতে দিনে গ্রামবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বাঁধ রক্ষায়। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছেন অতি দ্রুত সড়কের পাশ দিয়ে রিং বাঁধ দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
সরেজমিনে গিয়ে একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা যায়, চলতি পূর্ণিমা গোনে ভরা জোয়ারে বৃষ্টির পাশাপাশি এসব নদীতে অস্বাভাবিক হারে ২/৩ ফুট উঁচুতে পানি বৃদ্ধি পায়। ফলে উপজেলার ১৭/১ পোল্ডারের আওতাধীন কাঁঠালতলা – মাগুরখালী পাকা সড়কের রারুইকাটি মঠ মন্দির থেকে খেয়াঘাট অভিমুখে প্রায় আধা কিলোমিটার সড়কের উপর দিয়ে পানি উপচে পড়ছে এবং মাদারতলা পুরাতন কালভার্টের মুখ ভেঙে পানি ভিতরে ঢুকে পড়ে বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত হ‌ওয়ার আশংকা দেখা দেয়। আর প্লাবিত হলে বারুইকাটি,মাদারতলা,আমুড়বুনে,শেখেরট্যাক সহ ৮ গ্রামের মানুষের বসতবাড়ি,সবজি ক্ষেত‌ ও মৎস্য ঘের তলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হ‌ওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যে কারণে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে গ্রামবাসী। এদিকে শত শত গ্রামবাসীর রাতদিন সড়কের পাশ দিয়ে বালি ও মাটির বস্তা ফেলে এবং কালভার্টের ভাঙ্গনের মুখে বাঁশের পাইলিং ও খড় কুটো দিয়ে বন্ধ করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কথা হয় স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য নিখিল চন্দ্র মন্ডলের সাথে, তিনি জানান নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এ গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পাকা সড়কের উপর দিয়ে পানি উপচে পড়ায় বিলে সবজি, মাছের ঘের, আমন ধান, মন্দির ও বসতঘর তলিয়ে অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। তাই সরকারি কোন অনুদান না পেলেও স্বেচ্ছাশ্রমে আমরা গ্রামবাসী চেষ্টা করছি। মাদারতলা গ্রামের স্বপন কুমার মিস্ত্রী সহ অনেকেই এক‌ই সুরে সুর মিলিয়ে বলেন, পুরাতন কালভার্ট মুখ ভেঙে বৃহত্তর বিলের মধ্যে পানি ঢুকার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক গ্রামবাসি কে সাথে নিয়ে রাতদিন স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে ভাঙ্গন মুখে বাঁশের পাইলিং করে খড়কুটো দিয়ে পানি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তা না হলে বিলে আমন ধান, মৎস্য ঘের, সবজি সহ বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা ছিল।
এদিকে গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল, পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তা, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা শেখ মতিয়ার রহমান বাচ্চু সহ অনেকে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ হাসনাতুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমার নলেজে আছে এবং সড়কের পাশে রিং ভেড়ি দেয়ার প্রস্তাব উর্ধ্বতন মহলে পাঠিয়েছি। বরাদ্দ আসলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

Loading

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *