
আমার দেশ পত্রিকার সাংবাদিক সেলিম উদ্দিন এর উপর হামলায় চার জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা। অবৈধ বালু ও মাটি খেকোদের বিরুদ্ধে নিউজ করায় চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় আমার দেশ পত্রিকার সাংবাদিক সেলিম উদ্দিনের ওপর হামলা করেছে দূর্বৃত্তরা।
শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের ফোর সিজন রেস্টুরেন্টের সামনে এই পরিকল্পিত হামলার স্বীকার হয় সাংবাদিক সেলিম উদ্দিন। এঘটনায় লোহাগাড়া থানায় চার জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ১০জনসহ মোট ১৪ জনকে আসামী করে এজাহার জমা দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলো উপজেলার চুনতি ডেপুটি পাড়া ৪ নং ওয়ার্ডের আমিন আহমদের ছেলে মো আসিফ(৩৭), আধুনগর ইউনিয়নের হানিফার পাড়া ৬নং ওয়ার্ডের মো ইলিয়াছের ছেলে মো জুনাঈদ(৩৮), চুনতি কুমুদিয়া পাড়া ৪নং ওয়ার্ডের শেখ আহমদের ছেলে মো: হোসাইন, চুনতি শাহসাহেব গেইট, ০৬নং ওয়ার্ডের কাশেম মিকারের ছেলে মো তৈয়ব (৪০)সহ আরো ৮/১০ জন।
এজাহার সুত্রে জানা যায়, ২৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে আমার দেশ পত্রিকার চুনতি মাটিখেকোর বিরুদ্ধে নিউজ করে সাংবাদিক সেলিম। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তরা ও অজ্ঞাতনামা ৮/১০ জন মিলে সাংবাদিক সেলিম উদ্দিনকে আজিজনগর থেকে লোহাগাড়া আসার পথে ঘটনাস্থল লোহাগাড়া থানাধীন চুনতি ইউপির চুনতি ফোরসিজনের সামনে রাস্তার উপর পৌছালে কিছু বুঝে আসার আগে সাংবাদিক সেলিমের উপর মারমুখী আক্রমণ শুরু করে। ঐ সময় ১ ও ২নং বিবাদীর হাতে থাকা লোহার রড ও গাছের লাঠি দ্বারা সাংবাদিককে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি বাড়ি মারলে তা বাম চোখে, পিটে এবং কোমরে পড়ে মারাত্মক ভাবে গুরুত্বর রক্তাক্ত জখম প্রাপ্ত হয়। ২ ও ৩ নং বিবাদীর হাতে থাকা কাঠের লাঠি দ্বারা সাংবাদিক সেলিমের কোমড়ের দুই পাশে, বুকের উপর, ডান পায়ে এলোপাথারিভাবে বাড়ি মেরে মারাত্মক ভাবে থেতলা ও নিলা ফুলা জখম প্রাপ্ত হয়ে মাটিতে পড়ে। ঐ সময় ৪ নং বিবাদী সেলিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা টিপে ধরে হত্যার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে বিবাদীগণ এবং অজ্ঞাত নামারা সাংবাদিক সেলিমকে ঘটনাস্থলের পার্শ্বে মোঃ শফির কুলিংকর্ণার দোকানের ভিতরে নিয়ে পূনরায় খিল, ঘুষি, লাথি মেরে জখম করে এবং অপহরণের উদ্দেশ্যে দোকানের পিছনে পাহাড়ের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
সাংবাদিক সেলিমের প্যান্ডের বাম পকেটে রাখা ৩৮,৭০০/- (আটত্রিশ হাজার সাতশত) টাকা এবং সংবাদ সংগ্রহের ক্যামরা নিয়ে যায়। যাহার অনুমান মূল্য ৩৬,০০০/টাকা। এ সময় সেলিমের ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন আগাইয়া আসে সকল বিবাদীগণ ও অজ্ঞাতনামা ৮/১০ জন লোকসহ প্রকাশ্যে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও খুন জখমের হুমকি প্রদর্শন করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
সাংবাদিক সেলিম উদ্দিন জানায়, হামলার পরে স্থানীয় লোকজন এসে উদ্ধার করে সাথে সাথে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার আমার শারীরিক অবস্থা আশংকাজনক এবং প্রচুর রক্ত বমি করতে দেখে সাথে সাথে জরুরী বিভাগে চিকিৎসা প্রদান পূর্বক হাসপাতালে ভর্তি দেয়। ভুক্তভোগী এই হামলার বিচার চায়।
লোহাগড়া থানার ওসি তদন্ত কর্মরর্তা প্রশান্ত কুমার ভৌমিক বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আানা হবে।
![]()


