বান্দরবান আলীকদমে বৈধ বিদ্যুৎ লাইন কেটে ৫০ হাজার টাকা দাবি, গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ

বান্দরবান আলীকদমে বৈধ বিদ্যুৎ লাইন কেটে ৫০ হাজার টাকা দাবি, গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ

বান্দরবান আলীকদমে বৈধ বিদ্যুৎ লাইন কেটে ৫০ হাজার টাকা দাবি, গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ

মো: ফরিদুল আলম বাবলু
ক্রাইম রিপোর্টার

বান্দরবান জেলা আলীকদম উপজেলায় বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি এবং টাকা না পেয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যুৎ বিভাগের এক লাইনম্যানের বিরুদ্ধে। এ সময় গ্রাহক পরিবারের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনাটি উপজেলার নয়াপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কলারঝিরি এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম মনুর বাড়িতে ঘটেছে।
ভুক্তভোগী নুরুল ইসলাম মনু জানান,
“আমি তখন বাসায় ছিলাম না, বাসায় আমার স্ত্রী ছিলেন। আমার স্ত্রী আমাকে ফোন দিলে আমি দ্রুত বাইক নিয়ে বাসায় আসি। এসে দেখি লাইনম্যান ইব্রাহিম আমার কোনো কথা না শুনেই বিদ্যুতের লাইন কেটে দিচ্ছেন। আমি তাকে বলি, আমার মিটার বৈধ এবং আমি কোনো অবৈধ সংযোগ নেইনি। আমি ওয়ারিং মিস্ত্রিকে নিয়ে আসার কথা বললেও তিনি আমার কথা না শুনে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন এবং আমার স্ত্রীর গায়েও হাত তোলেন।”

এবিষয়ে ভুক্তভোগী গৃহবধূ শাহিন আক্তার বলেন,
“লাইনম্যান ইব্রাহিম আমাদের লাইনকে অবৈধ বলে কেটে দেন। অথচ আমরা কোনো অবৈধ লাইন ব্যবহার করি না। আমার স্বামী ওয়ারিং মিস্ত্রিকে ডেকে আনতে গেলে ইব্রাহিম তার সঙ্গে টানাহেঁচড়া করেন। আমি তাকে অনুরোধ করি, আগে মিস্ত্রি আসুক, তারপর যদি কোনো সমস্যা থাকে লাইন কাটবেন। কিন্তু তিনি আমাদের কোনো কথা শোনেননি। তিনি তার সহকারীকে দ্রুত লাইন কাটার নির্দেশ দেন এবং বলেন, ৫০ হাজার টাকা দিলে আবার লাইন ঠিক করে দেবেন। আমি বাঁধা দিলে তিনি প্লায়ার্স দিয়ে আমার হাতে আঘাত করেন। আমি দৌড়ে সরে যেতে চাইলে তিনি আমার পরনের ব্লাউজ ছিঁড়ে টানা হেড়ছা করে।”

ওয়ারিং মিস্ত্রি মাহিন কাদের হৃদয় বলেন,
“নুরুল ইসলাম মনুর বাড়ির বিদ্যুতের ওয়ারিংয়ের কাজ আমি করেছি। এটি সম্পূর্ণ বৈধ সংযোগ ছিল। কয়েক দিন আগে লাইনম্যান ইব্রাহিম এসে তাদের লাইনকে অবৈধ বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন এবং লাইন ঠিক করে দেওয়ার কথা বলে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। আমি বিষয়টি দেখতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন। পরে গিয়ে দেখি, যে বিষয়টি দেখিয়ে লাইন কাটা হয়েছে, সেটি মূলত ফ্যানের লাইনে টেপ মোড়ানো ছিল।”

নয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন বলেন,
“কলারঝিরি এলাকার এক বাসিন্দা আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছেন। আমি এ বিষয়ে লামা বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছি। তবে এখনো কোনো সমাধান হয়নি।”

অভিযুক্ত লাইনম্যান ইব্রাহিম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে লাইন কেটেছি। লাইন কাটতে গেলে আমিই হামলার শিকার হয়েছি।”

তবে গৃহবধূকে মারধরের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি তা অস্বীকার করেন এবং উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর দোষ চাপান।

এ বিষয়ে লামা বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী গৌতম চৌধুরী বলেন,
“লাইন কাটার বিষয়টি আমি আলীকদমের নয়াপাড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের কাছ থেকে শুনেছি। আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বিষয়টি সমাধানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু অভিযুক্ত লাইনম্যান ইব্রাহিম সেখানে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আরও অনেক অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমি নিজেও বিরক্ত। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে।

Loading

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *