
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হলেন নুরুল ইসলাম মনি, বরগুনা পাথরঘাটায় আনন্দ মিছিল।
মোঃ হাসান কাজী
বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন বরগুনার আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম মনি। তিনি বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বরগুনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। এদিকে আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম মনিকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মনোনীত করায় বরগুনা ও পাথরঘাটায় আনন্দ মিছিল করেছে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন বরগুনার আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম মনি।
ক্যারিশমাটিক নেতা হিসেবে পরিচিত আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম মনি ২০০১ সালে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বরগুনা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া ১৯৮৮ ও ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বরগুনা-২ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তিনি বিএনপিতে যোগদান করেন।
নুরুল ইসলাম মনিকে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়ার খবরে সন্ধ্যায় একটি আনন্দ মিছিল বরগুনা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাব চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে।
এতে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্মআহ্বায়ক অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন, মো. ফজলুল হক মাস্টার, সাবেক যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান পান্না, পৌর বিএনপির সাবেক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, জেলা ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা শাহজালাল রুমি, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফায়জুল মালেক সজীব প্রমুখ।দলের ভাইস-চেয়ারম্যানের পদ পেয়ে আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম মনি দর্পন বাংলা নিউজকে বলেন, ‘দলের এখন যে পরিস্থিতি, দলের এমন অবস্থায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মহোদয় আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন এবং যে আস্থা আমার ওপর রেখেছেন, আমি তা যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করবো। দেশে একটি ক্রান্তিকাল চলছে, একটি স্বৈরাচারী শাসক পালিয়ে গেছে। ১৫ বছর এই দেশের মানুষ জুলুম, নির্যাতন, অন্যায়, অবিচার, নিষ্পেষণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ সকল কিছু মোকাবেলা করেছে। তবে এখন একটি ভালো পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আমি চেষ্টা করবো বিএনপির মাধ্যমে মানুষ যাতে সুফল ভোগ করতে পারে। আগামী গণতান্ত্রিক নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের সব সংসদীয় আসন যাতে বিএনপি পায়, ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে সেদিকে আমার বিশেষ দৃষ্টি থাকবে।তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছে আমি তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করি এবং যারা আহত হয়েছেন প্রয়োজনে বিদেশে নিয়ে তাদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি দাবি জানাই। স্বৈরাচারী শাসক অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিকভাবে দেশকে ধ্বংস করেছে। দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে। দেশের সব স্তম্ভ ধ্বংস করেছে হাসিনা সরকার। দলকে সঙ্গে নিয়ে আমরা চেষ্টা করব ধ্বংসযজ্ঞ থেকে দেশকে একটি গণতান্ত্রিক দেশে পরিণত করার। পাশাপাশি বর্তমান সরকারকেও আমরা সহযোগিতা করব।’
বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করার জন্য ভারত প্রচণ্ডভাবে কাজ করেছে। এখন তা থেকে দেশ রক্ষা পেয়েছে। ছাত্র-জনতা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছে। আমরা সবকিছু সুসংগঠিত করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে চাই। কখনোই যেন বর্গীরা, বিশেষ করে ভারত যেন কালো হাত দিয়ে আমাদের কোন কিছু দখল করতে না পারে, সেজন্য আপ্রাণ চেষ্টা করবো।
![]()


