পরীক্ষা না দিয়েও ফাজিল পাশ,কেন্দ্র বাতিলের দাবি

পরীক্ষা না দিয়েও ফাজিল পাশ,কেন্দ্র বাতিলের দাবি

পরীক্ষা না দিয়েও ফাজিল
পাশ,কেন্দ্র বাতিলের দাবি

স্টাফ রিপোর্টার(জামালপুর)

জামালপুরের বকশীগঞ্জে পরীক্ষা না দিয়েই ফাজিল পাশ করেছেন মোস্তাকিম বিল্লাহ নামে এক শিক্ষার্থী। বিষয়টি বেশ সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগের তীর বাট্টাজোর কেরামতিয়া রিয়াজুল ইসলাম কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ কেন্দ্র সুপার সুলতান মাহমুদ খসরুর বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এ ঘটনার জন্য তিনি ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষকে দায়ী করেছেন। ইতোমধ্যে পরীক্ষার্থী মোস্তাকিম বিল্লাহর ব্যক্তিগত ও পরীক্ষা সংক্রান্ত কাগজপত্র তলব করেছে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইয়াসিন আলী। এ ঘটনায় বাট্টাজোর পরীক্ষা কেন্দ্র বাতিলের দাবি জানিয়েছেন এলাকার শিক্ষানুরাগী সচেতন নাগরিকরা।

জানা গেছে, বাট্টাজোড় ইউনিয়নের ফুলদহপাড়া গ্রামের মঞ্জুরুল হকের ছেলে ও কেরামতিয়া রিয়াজুল ইসলাম মাদরাসার শিক্ষার্থী মোস্তাকিম বিল্লাহ পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে সৌদি আরবে ছিলেন। ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে (বিষয় কোড ৪১৬) ফাজিল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বাইরে থাকার কারনে তিনি পরীক্ষা দিতে পারেন নি। তার শিক্ষাবর্ষ ২০২১-২০২২, রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ২১২০৩১১৯১, ফাজিল রোল: ২১২০৩১১৯১। প্রকাশিত ফলাফলে তিনি জিপিএ ৩.২৫ পান। বিষয়টি জানাজানি হলে অসাধুপায় অবলম্বনের দায়ে বাট্টাজোড় কেরামতিয়া রিয়াজুল ইসলাম কামিল মাদরাসা পরীক্ষা কেন্দ্র বাতিলের দাবি উঠে। তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ নিজেদের দায় এড়াতে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন।
এ ব্যাপারে জানতে শিক্ষার্থী মোস্তাকিম বিল্লাহর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি তার মায়ের হাতে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে বাট্টাজোড় কেরামতিয়া রিয়াজুল ইসলাম কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. সুলতান মাহমুদ খসরু বলেন,পরীক্ষার সময় মোস্তাকিম বিল্লাহ সৌদি আরবে ছিলেন। বিদেশে থাকায় তিনি পরীক্ষায় অংশ নেননি। কিন্তু ফলাফলে তিনি কীভাবে পাশ করেছেন, সে বিষয়ে আমি অবগত নই। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করতে বলেছেন। নির্দেশনা অনুযায়ী ১২ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হবে। এরপর কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত দেবে সে মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বকশীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ উল হাসান বলেন,এ ঘটনার দায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ কোন ভাবেই এড়াতে পারেন না। তিনি যদি পরীক্ষার খাতা বোর্ডে না পাঠাতেন তাহলে রেজাল্ট আসলো কি করে। অনিয়ম যা হওয়ার তা মাদ্রাসা থেকেই হয়েছে। তাই পরীক্ষা কেন্দ্রটি বাতিল করে দেওয়া উচিৎ।
এ ব্যাপারে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ইয়াসিন আলী জানান,বাট্টাজোড় কেরামতিয়া রিয়াজুল ইসলাম কামিল মাদরাসা কর্তৃপক্ষের কাছে পরীক্ষার্থীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তলব করা হয়েছে। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Loading

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *